পবিত্র কুরআনুল কারিম অবমাননার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সোমবার (৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, গত ৪ অক্টোবর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পালের নিকৃষ্ট ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনুল কারিম অবমাননার জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ শান্তিকামী সব নাগরিক গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, কুরআন মাজিদ আল্লাহ তাআলার কালাম, মানবজাতির জন্য সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ জীবনবিধান। এর অবমাননা কেবল ধর্মীয় অনুভূতির আঘাত নয়, বরং আল্লাহর প্রতি বিদ্রোহ এবং ইসলাম ধর্মের ওপর সরাসরি আক্রমণ। মুসলমানরা কুরআনকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে—তার অবমাননা কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা যায় না।
অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, প্রত্যেক ধর্মের অনুসারী তাদের ধর্মগ্রন্থকে পরম শ্রদ্ধায় ধারণ করে। তাই ধর্মগ্রন্থ অবমাননা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ওপর ভয়াবহ হুমকি। এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ বা ‘অসাবধানতা’ বলে আড়াল করা যায় না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির সুন্দর ঐতিহ্য বহন করে আসছে। সম্প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে, যা এর প্রমাণ। অথচ একই সময়ে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করছে কিনা—তা রাষ্ট্রীয়ভাবে গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তাদের উচিত ছিল ঘটনাটির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অপরাধীকে রক্ষার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কৃত্রিমভাবে ‘মানসিক রোগী’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন, তবে তা হবে ন্যায়বিচারের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অপরাধের প্রশ্রয় দেওয়া।
অধ্যাপক পরওয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপূর্ব পালকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, আইনের প্রতি আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগ উপায়ে প্রতিবাদ জানান, যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট থাকে এবং আল্লাহর বিধানের প্রতি শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ণ থাকে।
