গণভোট আয়োজন, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধনের আয়োজন করে দলটি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই দাবিতে সমমনা সাতটি দল একযোগে মানববন্ধন পালন করে।
রাজধানীর মৎস্যভবন মোড়ে আয়োজিত প্রধান মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, “বর্তমান সরকারের চার-পাঁচজন উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, ফলে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত দলীয় রূপ নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় আনুগত্যশীল ব্যক্তিদের বসিয়ে নীলনকশাভিত্তিক নির্বাচনের ষড়যন্ত্র চলছে। এই অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।”
ডা. তাহের অবিলম্বে ষড়যন্ত্রে জড়িত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, “এই উপদেষ্টাদের সরানো না হলে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জুলাই শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে। অতীতে যারা জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছিল, তাদের মতো এই সরকারের পরিণতিও হবে ভয়াবহ।”
জামায়াতের পাঁচ দফা দাবি
১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের মাধ্যমে এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা।
২. জাতীয় নির্বাচনে প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালু করা।
৩. প্রশাসনে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. দুর্নীতি, গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা।
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
সভাপতির বক্তব্যে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিন, নয়তো আন্দোলনের নতুন ধাপ শুরু হবে। প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করা হবে।”
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আব্দুল হালিম ও ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
এ সময় ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন এবং রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
বর্তমান সরকারের চার-পাঁচজন উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দলীয় রূপ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, “প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় ব্যক্তিদের বসিয়ে যে পরিকল্পিতভাবে নীলনকশা বাস্তবায়ন চলছে, তাতে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।” তিনি অবিলম্বে ষড়যন্ত্রে জড়িত উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি জানান এবং সতর্ক করে বলেন, “এই উপদেষ্টাদের না সরালে জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।”
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মৎস্যভবন মোড়ে পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও সমমনা সাতটি দল একই কর্মসূচি পালন করে।
ডা. তাহের বলেন, “আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছিলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে। কিন্তু আশ্বাস দেওয়ার পরও সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে, যার অতীত রেকর্ড একটি দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসনে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ করুন। নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিন। তা না হলে কোন কোন উপদেষ্টা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন, তাদের সব প্রমাণ ও রেকর্ডসহ জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জুলাই শহীদদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেইমানি করছে। অতীতে যারা জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছিল, তাদের মতোই বর্তমান সরকারেরও পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ।
ডা. তাহের ষড়যন্ত্রকারী উপদেষ্টাদের অপসারণ, নভেম্বরে গণভোট আয়োজন, পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং খুনিদের দৃশ্যমান ন্যায়বিচারসহ জামায়াতের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আন্দোলন কেবল শুরু হয়েছে—দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—পাঁচ দফা গণদাবি অবিলম্বে মেনে নিন এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিন। অন্যথায় প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করা হবে।”
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করীম। এছাড়া বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আব্দুল হালিম এবং দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
এ সময় ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ মহানগর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
