জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাটি ঘিরে চলছে নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন। পুলিশ দাবি করছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জোবায়েদের ছাত্রী বর্ষা। তবে বর্ষার পরিবার বলছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। তাঁদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় বর্ষা বাসায় ছিলেন, খুনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
বর্ষার বাবা গিয়াস উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর সঙ্গে কথা বলার সময় পুলিশের বক্তব্যকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “পুলিশ বলেছে বর্ষা পরিকল্পনা করে স্যারকে খুন করেছে—এটা একেবারেই ভুল কথা। খুনের সময় বর্ষা ঘরের ভেতরে ছিল। বর্ষা খুনের বিষয়ে কিছুই জানতো না। মাহিরই খুন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ দাবি করছে, খুনের সময় বর্ষা তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে ছিল, আর খুনের আগে স্যার নাকি বর্ষার কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। এগুলো সব মিথ্যা।” গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, “খুনের সময় বর্ষা ভাত খাচ্ছিল। বর্ষার মা নিজ হাতে তাকে খাইয়ে দিচ্ছিলেন। খুনের খবর জানার পর বর্ষা ও তার মা পঞ্চম তলা থেকে নিচে আসে।”
ডিএমপির প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, বর্ষা ও মাহির যৌথ পরিকল্পনায় শিক্ষক জোবায়েদ হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মতে, খুনের পেছনে ত্রিভুজ প্রেমই মূল কারণ। পুলিশের বক্তব্যে বলা হয়, বর্ষা বাড়ি থেকে গহনা বিক্রি করে মাহির জন্য মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। তবে বর্ষার বাবা দাবি করেন, “এই কথাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্ষা গহনা বিক্রি করেনি, বাসা থেকে কোনো গয়না হারায়নি। ওর কাছে টাকা ছিল না, এটা বানানো গল্প।”
বর্ষার বাবা জানান, মাহির সঙ্গে বর্ষার সম্পর্কের কথা তারা প্রথমে জানতেন না। “দুই বছর পর জানতে পেরেছিলাম। জানার পর আমরা ওদের ভাড়া বাসা থেকে বের করে দিই। এরপর তারা আলাদা হয়ে যায়।”
তিনি বর্ষার স্বীকারোক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ ওকে মারধর করে, ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি নিয়েছে। ও কোনো স্বীকারোক্তি দেয়নি। পুলিশ বর্ষার মায়ের ওপরও চাপ দিয়েছে।”
বর্ষার মা বলেন, “স্যার (জোবায়েদ) খুব ভালো মানুষ ছিলেন। বর্ষাকে পড়াতে আসতেন। মাহির এটা ভালো লাগতো না। সে বলতো, স্যার যেন বাসায় না আসে। এমনকি বর্ষাকে অ্যাসিড মারার হুমকিও দিয়েছিল। মাহির ছেলেটা ভালো ছিল না—নেশা করতো, এলাকার সবাই জানে।”
বর্ষার বাবা-মা দুজনেই দাবি করেন, বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। “আমরা কখনও এমন কিছু দেখিনি বা শুনিনি। বরং স্যারকে আমরা ভদ্র, সম্মানিত মানুষ হিসেবেই জানতাম।”
তবে মামলার তদন্তকর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আশরাফ হোসেন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বর্ষার বাবা-মা স্বাভাবিকভাবেই মেয়েকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন। কিন্তু আমরা আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই তথ্য প্রকাশ করেছি। তারা নিজেরাই খুনের পরিকল্পনার কথা বলেছে। বর্ষার বাবা-মা যা বলছেন, তা মেয়েকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডে কে সত্য বলছে আর কে মিথ্যা, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই। তবে বর্ষার পরিবার এখনও দাবি করছে—“আমাদের মেয়ে নির্দোষ।”







