রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ঘাঘট নদীর বালুমহালে দুই শিশুকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টার মামলায় আব্দুর রশিদ নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ, শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুর রশিদ গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সকালে ঘাঘট নদীর তীরের বালুমহালে পাথর কুড়াতে যায় শিশু আব্দুর রহমান (৭) ও মারুফ মিয়া (৬)। সেখানে তাদের হত্যা করে বালুর নিচে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়।

দুই শিশু সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবার খোঁজ শুরু করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আজাহারুল ইসলামের বালু উত্তোলনস্থলের নিচ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এরপর নিহত শিশুদের বাবা আব্দুর রশিদ ও জাকেরুল ইসলাম গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি আজাহারুল ইসলামকে গত শুক্রবার র্যাব বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার দিন শিশু দুটি বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে আর ফেরেনি। বুধবার বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে অবৈধ বালু উত্তোলনস্থলে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, শিশু দুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতরা—মারুফ মিয়া ও আব্দুর রহমান—নগরবন্দ বড়াইবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের গলায় রশি বাঁধা ছিল এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করে।







