বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে। নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে গভীর আগ্রহ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার ফেরার বিষয়টি শুধু রাজনীতি নয়—এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মা খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তাজনিত বিবেচনা।
‘শিগগিরই ফিরবেন’—বলা হলো বৈঠকে
সোমবার রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “তারেক রহমান শিগগির দেশে ফিরবেন।” এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয় তিনি লন্ডন থেকে রওনা হয়েছেন। তবে ফ্যাক্ট চেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য ডিসেন্ট’ জানিয়েছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ পুরোনো।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেই ছেলে তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রস্তুতি প্রায় সমাপ্ত, সময় নির্ধারণ বাকি
দলীয় সূত্র জানায়, দেশে ফেরার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে ফেরার সম্ভাবনা কম। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি বিজয় দিবসই পালন করতে পারেন দেশের মাটিতে। আবার অনেকে বলছেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই তার প্রত্যাবর্তন ঘটবে।
তারেক রহমান কোথায় থাকবেন—তা নিয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুলশান-২ এর ‘ফিরোজা’র পাশের সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৯৬ নম্বর বাড়িতে থাকার কথা রয়েছে তার। তার ব্যবহারের জন্য বুলেটপ্রুফ বাস ও গাড়িও সংগ্রহ করা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান
সরকারি সূত্র বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। তিনি চাইলেই যেকোনো সময় ফিরতে পারেন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুমতি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তারেক রহমান এখনো ট্রাভেল পাশ চাননি, চাইলে তা ইস্যু করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে কারও জন্যই ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই’, সরকার প্রস্তুত।
মায়ের জন্য সন্তানের অপেক্ষা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। লন্ডনে অবস্থান করলেও প্রতিটি মুহূর্তে ভার্চুয়ালি চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছেন তারেক রহমান। স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডেও যুক্ত রয়েছেন।
শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “সংকটকালে মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও রয়েছে।” তবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিয়ন্ত্রণে নয় বলেও উল্লেখ করেন।
তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা—এসএসএফ দায়িত্বে
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) ঘোষণা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর এসএসএফ সদস্যরা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।
‘আবেগ নয়, সঠিক সময়ের অপেক্ষা’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দায়িত্বশীল নেতা আবেগ দিয়ে নয়, সঠিক সময় দেখে সিদ্ধান্ত নেন। “আজ তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব—মাকে বাঁচানো।”
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ আরেক নেতা বলেন, লন্ডন এখন তাদের জন্য ‘অপেক্ষার ঘর’। চিকিৎসকদের নির্দেশ মিললেই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তাই এখনই দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবতার ভিত্তিতেই।
‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী’
ব্যারিস্টার আবু সালেহ মো. সায়েম বলেন, তারেক রহমান দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি অবশ্যই ফিরবেন—দেশের স্বার্থেই তা ঘটবে।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেশের মানুষকে দোয়া ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন,
“দেশবাসীর সম্মিলিত সমর্থনই আমাদের পরিবারের শক্তি ও প্রেরণার উৎস।”
বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালের নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছে।







