বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গুম করার পর হত্যা করা হয়েছে—তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
তাজুল ইসলাম বলেন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার পর মরদেহের পেট ফেঁড়ে নাড়ি-ভুঁড়ি বের করে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে কখনো বরগুনার বলেশ্বর নদী, কখনো সুন্দরবন, আবার কখনো শীতলক্ষ্যা কিংবা বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তিনি জানান, জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৯ সালে মেজর পদে থাকাকালে তিনি র্যাব-২-এর উপ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান। পরে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হন। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
২০১৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হন জিয়াউল আহসান এবং এরপর কিছু সময় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে তাকে টেলিযোগাযোগ নজরদারির সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)-এর পরিচালক করা হয়। ২০২২ সালে সেখানে মহাপরিচালক পদ সৃষ্টি করে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে তিনি পদোন্নতি পেয়ে মেজর জেনারেল হন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।







