সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সময়ক্রম ও ভাষাগত মিল বিশ্লেষণ করে অভিযোগ উঠেছে, একই উৎস থেকে সমন্বিতভাবে একটি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে।
প্রথমত, রাত ১টা ৫৬ মিনিটে নেওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি এস এম জাকির হোসেন একটি কথিত তালিকা ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা পোস্ট করার সময় দেখানো হয় ৪৫ মিনিট আগে। দ্বিতীয়ত, এক মিনিট পর রাত ১টা ৫৭ মিনিটে নেওয়া আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, জুলকারনাইন শায়ের একই তালিকা হুবহু ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা পোস্ট করার সময় দেখানো হয় ৭ মিনিট আগে। এতে সময়গতভাবে স্পষ্ট হয় যে জুলকারনাইন শায়েরের পোস্টটি জাকির হোসেনের পোস্টের পরেই করা।
এরপর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি ‘জরুরি বৈঠক’ আহ্বান করে। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিবের স্বাক্ষরে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভাষা ও বক্তব্য আগের দুটি ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। যেহেতু প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে প্রকাশিত হয়, তাই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, আলোচিত তিনটি লেখায় একই ধরনের বানান ভুল রয়েছে। তালিকার ৫ নম্বর পয়েন্টে ‘কালচারাল’ শব্দটি ভুলভাবে ‘কালচালার’ এবং ১১ নম্বর পয়েন্টে ‘নিউজ এজ’ শব্দের একই ভুল বানান তিনটি ক্ষেত্রেই একরকম দেখা যায়। এতে করে তিনটি লেখার উৎস একই বলে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি থেকে দুটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। একদিকে ধারণা করা হচ্ছে, তিনটি পোস্ট ও বিবৃতির উৎস এক, এবং একই জায়গা থেকে সমন্বিতভাবে এই বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, যদি বাইরে থেকে কেউ এটি সরবরাহ না করে থাকে, তবে অভিযোগ উঠছে—জুলকারনাইন শায়ের ও বিএনপি জেনে-বুঝে আওয়ামী লীগের মিথ্যা প্রোপাগান্ডাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করেছে।
ঘটনাটিকে তুচ্ছ বা বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়, যা সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।







