আততায়ীর গুলিতে শাহাদাতবরণ করা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির অবদান স্মরণীয় করে রাখতে তার নামে ছাত্রাবাসের নামকরণ করেছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ। গতকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজটির একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনুরূপ দাবির মধ্যে এটিই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে গায়েবানা জানাজা ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব কলেজের ছাত্রাবাসের নাম শহীদ ওসমান হাদির নামে রাখার প্রস্তাব দেন। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবাইদা সুলতানার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নামকরণের দাবি জানান। একই দিন অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কলেজের ছাত্রাবাসের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যাপক ডা. জোবাইদা সুলতানা জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রাবাসের নাম শহীদ ওসমান হাদির নামে নামকরণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হবে।
এদিকে একই দাবিতে দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজেও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ চোখে পড়ছে। ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (এসএসএমসি) ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বর্তমান ইন্টার্ন হোস্টেলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি ইন্টার্ন হোস্টেল’ রাখার বিষয়ে একমত হন। আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) তারা নিজস্ব অর্থায়নে নামফলক তৈরি করে হোস্টেলের প্রধান ফটকে স্থাপন করেন। একই সঙ্গে নামটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
অপরদিকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতের ঘটনায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিলের পর শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় তারা কলেজের ছাত্রাবাসের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি কলেজের একাডেমিক ভবনে ‘জুলাই ও আধিপত্যবাদবিরোধী কর্ণার’ স্থাপনের দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, শরিফ ওসমান হাদির ত্যাগ ও সংগ্রাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।







