জার্মানি একক বছরে প্রায় ৫২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় এককালীন বিনিয়োগ। জার্মান সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে আধুনিকায়নের পথে এগোতে চায় বার্লিন।
এই বড় ধরনের সামরিক ব্যয়ের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তিত হয়েছে এবং বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর। ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জার্মানি দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ছিল। অস্ত্রের পুরোনো অবস্থা, গোলাবারুদের ঘাটতি এবং যুদ্ধোপযোগী প্রস্তুতির অভাবের বিষয়টি জার্মান সরকার নিজেও স্বীকার করেছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জার্মানি ধাপে ধাপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে শুরু করে। প্রস্তাবিত ৫২ বিলিয়ন ইউরোর এই প্যাকেজকে সেই নীতির সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বাজেটের আওতায় মোট ৭৩টি বড় সামরিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনা। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এসব বিমান রাডারে ধরা পড়া কঠিন এবং অত্যন্ত নির্ভুল হামলায় সক্ষম। ন্যাটোর পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও এই এফ-৩৫ জেট ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনায় রয়েছে দীর্ঘ ও স্বল্প পাল্লার বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক কমব্যাট ও নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নতুন প্রজন্মের সাঁজোয়া যান ও সামরিক গাড়ি, উন্নত অগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ সংগ্রহ। অর্থাৎ, কেবল নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র নয়, বরং পুরো সামরিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর লক্ষ্য নিয়েছে জার্মানি।
জার্মান সরকারের মতে, এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বাড়াবে, ইউরোপের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করবে এবং ন্যাটোর প্রতি জার্মানির দায়বদ্ধতাকে বাস্তবে রূপ দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে একসঙ্গে এত বড় সামরিক ব্যয়ের নজির আর দেখা যায়নি। এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির বিষয় নয়; এটি জার্মানির দীর্ঘদিনের সামরিক সংযম নীতির একটি বড় পরিবর্তন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা মানচিত্রে দেশটির ভূরাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার ইঙ্গিত বহন করছে।







