ফেনীর বালিগাঁও এলাকায় চুরির অভিযোগে দুই যুবককে বেঁধে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারেক রহমানের ছবি টাঙানো একটি কক্ষে এক ব্যক্তি লাঠি হাতে দুই যুবককে একসঙ্গে বেঁধে মারধর করছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ফেনীর বালিগাঁও এলাকায় ঘটে।
মারধরের শিকার দুই যুবকের নাম খাজা মাঈনুদ্দিন ও ইসমাইল। খাজা মাঈনুদ্দিন পেশায় রিকশাচালক এবং ইসমাইল গ্রিল মিস্ত্রি। চুরির অভিযোগে তাদের এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভিডিওতে যিনি মারধর করছেন, তিনি রসুল আমিন নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচিত বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
চুরির অভিযোগে মারধরের শিকার খাজা মাঈনুদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, রসুল আমিন বালিগাঁও এলাকার ইয়াবা ডিলার। তিনি তাকে ইয়াবা বিক্রিতে চাপ দেন। ইয়াবা সেবন করলেও বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় চুরির অভিযোগ তুলে তাকে অফিসে নিয়ে মারধর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রসুল আমিনের ভয়ে তিনি বর্তমানে রিকশা চালাতে পারছেন না এবং থানায় অভিযোগ দেওয়ার সাহসও পাননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা রসুল আমিন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বালিগাঁও এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। গরু, রিকশা, সিএনজি ও বাড়িঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি দাবি করেন, খাজা মাঈনুদ্দিন ওই এলাকায় বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছেন এবং একাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত। কয়েকদিন আগে কয়েক লাখ টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরির প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তার বক্তব্য। তবে অভিযুক্তকে থানায় না দিয়ে নিজে মারধর করা ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







