জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাতভর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করছেন বিক্ষোভকারীরা। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শাহবাগ ছাড়বে না।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য নাইম ইবনে জহির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শহীদ হাদি হত্যার বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অবস্থান কর্মসূচির ফলে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে শাহবাগে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার জনগণের সামনে এসে জবাবদিহি না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই জায়গা জনগণ ছাড়বে না।
তিনি বলেন, হাদি ভাইকে গুলি করার আজ ১৪তম দিন, তার শাহাদাতের অষ্টম কিংবা নবম দিন পার হয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও রাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি। একজন নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে এবং হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, শাহবাগের এই জমিন শহীদ ওসমান হাদির রক্তে ভিজে আছে। অথচ এখন আন্দোলনকারীদের নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে হাজিরা দেওয়া গেলেও জনগণের সামনে এসে জবাব দিতে ভয় পাচ্ছে সরকার।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের তিন দফা দাবি পুনরায় তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো— দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা; হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাদারি গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করা; এবং সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করা।
অবস্থান কর্মসূচিতে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, সরকার যদি ন্যূনতম বিচার নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামতে হওয়াই সরকারের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, হাদির মুখ বন্ধ করে দেওয়া মানে লাখ হাদিকে জাগিয়ে তোলা। আমরা এখানে বক্তব্য দিতে আসিনি, আমরা ইনসাফ চাইতে এসেছি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, হত্যাকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত শাহবাগ অবরোধ চলবে। অন্তর্বর্তী সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেউ আলোচনা করতে চাইলে শাহবাগে এসে জনগণের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং জনগণের সামনে জবাবদিহি করতে হবে।
শাহবাগে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষকে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা জানান, প্রয়োজনে তারা দিন-রাত শাহবাগে অবস্থান করবেন এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।







