চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গুরুতর আহত হয়েছেন আবু সুফিয়ান সিজু (২৫) ওরফে ‘সিজু ডাকাত’। স্থানীয়দের গণপিটুনি ও পরবর্তী কোপানোর ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে জখম হলেও এই ঘটনার দায় জামায়াত-শিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ ডিসেম্বর উপজেলার উমরপুর ঘাট এলাকায়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিজু এলাকায় ‘সিজু ডাকাত’ নামেই পরিচিত। প্রেমঘটিত বিষয় ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি পাশের এলাকার দুই-তিনজন যুবককে উমরপুর বাজারসংলগ্ন ঘাটে মারধর করেন। এ সময় তার কাছে ধারালো অস্ত্র (স্থানীয় ভাষায় কাতা) ছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সিজু অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হামলার চেষ্টা করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্ষুব্ধ জনতা তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে রাতের দিকে (এশার পর) অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সিজুর হাতের কব্জি ও পায়ের পাতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল। তবে ঘটনার তিন দিন পর কয়েকটি গণমাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তারা। বিশেষ করে একটি অনলাইন মাধ্যমে ‘চাঁদার টাকা না পেয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে হাত-পা কাটার চেষ্টা’ সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, প্রেমঘটিত ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। সিজু কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। তিনি আরও জানান, সিজুর দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
এদিকে ঘটনার পর সিজুকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখা হলে তার মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে বাড়ি নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় দুইজনকে আটকের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে শ্যামপুর ইউনিয়নের চামাবাজার এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘শ্যামপুর ইউনিয়ন সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্যমঞ্চ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আটক ব্যক্তিরা নিরীহ এবং প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি এবং সিজু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সিজু দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধ করারও আহ্বান জানান তারা।







