আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির মধ্যে নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আজই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক দিন ধরে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে জোটের কাঠামো, যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বড় কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা
এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে মূলত কোন দল কোন আসনে প্রার্থী দেবে—তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে একটি নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই পক্ষ। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা ও তালিকা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময় প্রকাশ করা হতে পারে।
এনসিপির ভেতরে মতভিন্নতা
জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি এনসিপির ভেতরেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দলটির অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই জোটের বিরোধিতা করে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, জামায়াতের সঙ্গে জোট এনসিপির ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শন ও সংস্কারমূলক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই জোট আলোচনার জেরে ইতোমধ্যে এনসিপির শীর্ষ এক নেতা তাসনিম জারা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন এবং আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন।
জামায়াতের অবস্থান
জামায়াতে ইসলামির নেতারা বলছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সমমনা দলগুলোর ঐক্য জরুরি। এনসিপির সঙ্গে জোট হলে তা আন্দোলন ও নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি–জামায়াত জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ও নাগরিক রাজনীতির কথা বলে যাত্রা শুরু করা এনসিপির জন্য এই জোট রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আজই রাজধানীতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এনসিপি–জামায়াত জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি সেই ঘোষণার দিকেই।







