শহীদ শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল ছিল রাজধানীর শাহবাগ মোড়। ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বে চলা এ আন্দোলনে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে সংহতি প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে হাদি হত্যার বিচার ও ‘ভারতীয় প্রভাব’ মুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে রোববার দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
শনিবার সকাল থেকেই শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সহস্রাধিক আন্দোলনকারী বিক্ষোভে অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত এলাকায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে দেশাত্মবোধক গান, বক্তব্য ও বৈপ্লবিক স্লোগান চলতে থাকে। ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো—যুগে যুগে লড়ে যাব’ স্লোগানে শাহবাগ এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
দুপুরের দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিহত হাদির কবর জিয়ারত করতে এলে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ান। তবে তার ফিরে যাওয়ার পরপরই পুনরায় শাহবাগ মোড় দখলে নেন তারা। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগীসহ সাধারণ মানুষ।
শনিবার দিবাগত রাতে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শহীদ হাদির জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এটি একটি জাতীয় বিচার নিশ্চিতের দাবি। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারির পর এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বিচার সম্পন্ন করা হবে। অভিযুক্তরা বিদেশে অবস্থান করলে অনুপস্থিতিতেই বিচার হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, শহীদ হাদির মৃত্যু ছিল অত্যন্ত করুণ ও হৃদয়বিদারক। যে মানুষের জানাজায় ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে, তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকার এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, যাতে প্রতিপক্ষ সতর্ক হয়ে উঠতে পারে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রোববার দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘যমুনা ভবন ঘেরাও’ সংক্রান্ত প্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা। তিনি কর্মীদের ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ঘোষণার বাইরে কোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করার আহ্বান জানান।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, এই আন্দোলন শুধু হাদি হত্যার বিচারের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করার সংগ্রাম। হত্যার হুমকি থাকা সত্ত্বেও তারা শাহাদাতের মানসিকতা নিয়ে রাজপথে অবস্থান করছেন বলেও জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ছাত্রজনতা কোনো আপস করবে না।







