ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) নায়েবে আমির ফয়জুল করীমের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামি আলোচক ও বক্তা হাসেম মোল্লা সামাজিক মাধ্যমে বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, চরমোনাই নায়েবে আমিরের মতে তাঁদের দল ১৪৩টি আসনে ‘এ ক্যাটাগরি’তে রয়েছে—এই দাবির বাস্তব ভিত্তি জানতে তিনি কিছু প্রশ্ন তুলছেন।
হাসেম মোল্লা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, এটি কোনো নেতিবাচক মন্তব্য নয়; বরং চলমান বাস্তবতার আলোকে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে। তাঁর মতে, এতে করে চরমোনাইয়ের জনশক্তির মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কমবে এবং একই সঙ্গে জামায়াত যেন চরমোনাইকে মূল্যহীন মনে না করে—সে বিষয়েও সহায়ক হবে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট–লালমাই) আসনকে সামনে রেখে প্রশ্ন তোলেন। ওই আসনের ২৪টি ইউনিয়নে অতীতে কতজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান চরমোনাই থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন কি না এবং করলে কত ভোট পেয়েছেন—এসব বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা চান।
এ ছাড়া তিনি জানতে চান, ৫৫০টি গ্রামের মধ্যে কতটিতে দলীয় কমিটি রয়েছে, কাগজে-কলমে দলীয় কর্মী বা জনশক্তির সংখ্যা কত, পাঁচ আগস্টের পর থেকে কয়টি ইউনিয়ন সমাবেশ হয়েছে এবং কতটি গ্রামে সরাসরি গণসংযোগ করা হয়েছে।
পোস্টারে প্রচারণা, প্রার্থীর গ্রামভিত্তিক উপস্থিতি, বাজার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে দলীয় প্রতিনিধিত্ব, নির্বাচনকেন্দ্রভিত্তিক পরিচালক নির্ধারণ, বড় শোডাউন বা মিছিলের সংখ্যা, বিজয় দিবসে ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মসূচি, আগের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট এবং ইউনিয়নভিত্তিক মহিলা কমিটির অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন রাখেন।
হাসেম মোল্লা বলেন, তিনি মোট ১৬টি সূচক তুলে ধরেছেন, যেগুলো তাঁর বিবেচনায় একটি আসনে রাজনৈতিক শক্তিমত্তা যাচাইয়ের বাস্তব মানদণ্ড হতে পারে। এসব সূচকের বাইরে অন্য কোনো মানদণ্ডে চরমোনাই এগিয়ে থাকলে সেগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরলে ‘এ ক্যাটাগরি’ দাবির যৌক্তিকতা বোঝা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।







