ধূমপায়ীর পাশে সরাসরি না থাকলেও আশপাশে থাকলে সিগারেটের ধোঁয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সিগারেটের ধোঁয়াও অধূমপায়ীর হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, মস্তিষ্ক এবং প্রজনন ব্যবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, অল্প সময়ের জন্য ধোঁয়ার সংস্পর্শে এলেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও গুরুতর।
তামাকের ধোঁয়া মূলত ধূমপায়ীর নিঃশ্বাসে বের হওয়া ধোঁয়া এবং জ্বলন্ত সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়ার সমন্বয়ে তৈরি। এতে হাজারো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার অনেকগুলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী। ঘর, গাড়ি, অফিস কিংবা জনসমাগমস্থলে অধূমপায়ীরা অনিচ্ছাকৃতভাবেই এই বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকা শিশুদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় তামাকের ধোঁয়া অকাল প্রসব ও কম ওজনের শিশু জন্মের কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, জানালা খোলা বা ফ্যান চালু করলেও ধোঁয়ার ক্ষতিকর কণাগুলো পুরোপুরি দূর হয় না। এমনকি কাপড়, আসবাবপত্র ও দেয়ালে জমে থাকা ‘তৃতীয় হাত ধোঁয়া’ও পরে শিশুদের শরীরে প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘর ও যানবাহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা জরুরি। পাশাপাশি ধূমপায়ীদের বাইরে গিয়ে ধূমপান করা, পরে হাত ধোয়া এবং পোশাক পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিজের ও প্রিয়জনের সুস্থতার কথা বিবেচনা করে ধূমপান ত্যাগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সিদ্ধান্ত।







