ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানাবে বাংলাদেশ। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো। এ বিষয়ে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। সূচি অনুযায়ী আগামী মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার বিসিবির জরুরি বোর্ড সভা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কলকাতায় তিনটি ম্যাচ আছে। আজ যা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা আইসিসিকে লিখব।’
বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও দলের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিসিসিআই ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরানোর ব্যাখ্যা দেওয়ায় এই সন্দেহ আরও বেড়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, তিনি বিসিবিকে পুরো বিষয়টি আইসিসিকে ব্যাখ্যা করতে বলেছেন। তাঁর ভাষায়, যেখানে চুক্তিবদ্ধ হয়েও একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিরাপদ বোধ করতে পারে না। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানাতে বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া আসিফ নজরুল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ করেছেন বলেও জানান।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশের পর কলকাতা নাইট রাইডার্স নিশ্চিত করে যে তারা ২০২৬ আইপিএলের জন্য মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিয়েছে। গত মাসে আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। তবে ভারতের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহল থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা।
এদিকে শুক্রবার বিসিবি ২০২৬ সালের হোম সূচি ঘোষণা করে, যেখানে ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সিরিজটি ২০২৫ সাল থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিরিজ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।







