ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে থাকা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে সক্রিয় লবিং শুরু করেছে সৌদি আরব, ওমান ও কাতার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই তিন উপসাগরীয় আরব দেশ স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনকে জানাচ্ছে—ইরানে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
একই সময়ে এসব দেশ ইরানের ভেতরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তা দমনে কঠোর অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে নীরব অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, ওই দমন-পীড়নে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে উপসাগরীয় দেশগুলো এ বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য এড়িয়ে চলছে, যাতে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও না বাড়ে।
সৌদি আরবের কর্মকর্তারা কূটনৈতিক চ্যানেলে ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো সামরিক সংঘাতে তারা জড়াবে না। একই সঙ্গে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে রিয়াদ সম্ভাব্য মার্কিন হামলার দায় ও প্রতিক্রিয়া থেকে নিজেদের দূরে রাখার কৌশল নিচ্ছে।
ওমান ও কাতারও পর্দার আড়ালে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে কাজ করছে। ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করা এই দেশগুলো মনে করছে, ইরানে যুদ্ধ শুরু হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
তবে এই লবিং প্রচেষ্টায় অংশ নেয়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ইউএই এ বিষয়ে আলাদা অবস্থান নিয়েছে এবং ইরান ইস্যুতে সৌদি–কাতার–ওমানের যৌথ কৌশলের সঙ্গে প্রকাশ্যে যুক্ত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান সংকটকে তারা সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও নিয়ন্ত্রিত পথে সামাল দিতে চায়, যদিও তেহরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ গভীর।







