ফেসবুকে বিএনপির কিছু অ্যাক্টিভিস্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরু থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বা আল্লাহর নাম বাদ দেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল হয়ে যাবে। একই দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী, যিনি গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিএনপি ও এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর এই দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। জুলাই জাতীয় সনদ কিংবা গণভোটে সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অপসারণ বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের কোনো প্রস্তাব নেই।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন (প্রথম খণ্ড)-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে কমিশনের সুপারিশসমূহে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কমিশনের প্রথম সুপারিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রধর্ম সংক্রান্ত বর্তমান বিধান বহাল রাখা হবে। এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত মতামতের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখার পক্ষে ছিল। সে কারণে কমিশন রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখার সুপারিশ করেছে।

এছাড়া দ্বিতীয় সুপারিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বা ‘আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু’ অন্তর্ভুক্ত রাখা হবে।
অর্থাৎ সংবিধান সংস্কার কমিশন স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম অপরিবর্তিত রাখা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের পক্ষেই মত দিয়েছে।
ফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ বা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বাদ দেওয়া হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।







