আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায় পেলে উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির বলেন, নদী জীবিত থাকলে অঞ্চলও জীবিত থাকে। তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এতে কার ভালো লাগবে বা লাগবে না—সে বিষয়ে আমরা চিন্তিত নই। জনগণ দায়িত্ব দিলে উত্তরবঙ্গে প্রথম কোদাল পড়বে তিস্তাতেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদী শাসনে নিপীড়িত হয়েছে। মানুষের ন্যূনতম মানবিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, অথচ দেশের মানুষ শান্তি পায়নি।
তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা, গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়াবহ দমননীতি চালানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা ও শত শত মানুষকে গুম করা হয়েছে।
আমরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তবুও আমরা কখনো নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম করিনি। মিথ্যা মামলায় কাউকে হয়রানি করিনি। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এই দেশে চারটি ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। বাংলাদেশকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের আদলে নয়, একটি মানবিক ও গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
নারীর কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে সম্মানজনক কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইলে তিনটি শর্ত মানতে হবে— দুর্নীতি করা যাবে না, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং গত ৫৪ বছরের ব্যর্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। প্রয়োজনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। আমরা কথা দিয়ে কথা রাখব— কারও ক্ষতি করব না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহার, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।







