বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, দশ দলীয় জোটের প্রার্থীরা দেশপ্রেমিক ও ইসলামের পক্ষের শক্তি, যারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হল মাঠে দশ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে দীর্ঘ ১৪ বছর কারাবন্দি রাখা হয় এবং অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়। তিনি দাবি করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় তিনি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো মহল যদি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে বা অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগে দল-মত নির্বিশেষে ঐকমত্য হয়েছিল। বর্তমানে সেই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত একটি পক্ষ প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জুলাই সনদের বিরোধিতা করছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অতীতে মন্ত্রিত্বে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। জামায়াতের নেতাকর্মীরা দুর্নীতি করে না এবং ভবিষ্যতেও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে দেশের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও ইসলামের পথে যারা কাজ করবে, সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষেই ভোট দেবে।







