ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিও পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সমাবেশ মঞ্চে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে দেওয়া ওই পোস্টে উত্থাপিত দাবিগুলোকে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ‘ক্যাটাগরিকাল ডিজইনফরমেশন’ বলে দাবি করা হয়েছে।
মুসাদ্দিক তার পোস্টে দাবি করেন, ৫ আগস্ট থানার সামনে শহীদ হওয়া জামসেদুর রহমান হত্যাকাণ্ডসহ জুলাই মাসের গণহত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন। তবে নিহত জামসেদের চাচা তার মৃত্যুর প্রায় ১১ মাস পর, ২০২৫ সালের ১ জুলাই কুমিল্লা আদালতে ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামি তালিকায় সালাহউদ্দিনের নাম নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, সালাহউদ্দিন যদি ওই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন, তাহলে তার নাম মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
আরেকটি দাবিতে মুসাদ্দিক বলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শিবিরের সভাপতি শাহাবুদ্দীন পাটোয়ারী কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন এবং এই হত্যার অন্যতম নির্দেশদাতা সালাহউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়েই জামায়াতের সমাবেশ শুরু করেছেন ডা. আব্দুল্লাহ তাহের। তবে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল শাহাবুদ্দীনের বাবা নিজে বাদী হয়ে কুমিল্লা জজ কোর্টে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয় এবং নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার আসামিদের তালিকায় সালাহউদ্দিনের নাম নেই।

মুসাদ্দিকের তৃতীয় দাবিতে বলা হয়, সালাহউদ্দিন হত্যা মামলাসহ অসংখ্য মামলার আসামি এবং যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চৌদ্দগ্রামে ওই পেট্রোলবোমা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন জামায়াত নেতা তাহের, যিনি এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দিও ছিলেন। ৫ আগস্টের পর নতুন করে আওয়ামী লীগের ১৯০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়, যেখানে সালাহউদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তিনি ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন। তবে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘অসংখ্য মামলা’ থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন; তার নামে দুই-তিনটি ছোটখাটো মামলা থাকতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
সমালোচকদের মতে, একজন আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানকে জামায়াতের মঞ্চে জায়গা দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সেই বিতর্কের বাইরে গিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য উপস্থাপন করে জামায়াতকে আক্রমণ করা বিভ্রান্তিকর এবং অনভিপ্রেত বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।







