নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি কারাবন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম তার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ দেখতে প্যারোলের জন্য আবেদন করেও মুক্তি পাননি— এমন একটি খবর কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স।
সংগঠনটির দাবি, জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলের জন্য কোনো আবেদনই করা হয়নি। সাদ্দামের স্ত্রীর পরিবারের বরাতে তারা জানায়, সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে প্যারোলের আবেদন না করে শেষবারের মতো জেল গেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানো হবে।
জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, সাদ্দামের মুক্তির জন্য প্যারোলের আবেদন না করার সিদ্ধান্ত ছিল পরিবারের, প্রশাসনের নয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। পলাতক থাকা অবস্থাতেও তিনি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পরে একটি মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় জেলের বাইরে থাকলেও সাদ্দাম পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেননি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। এতে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যা কারাবন্দি হওয়ার পর আরও তীব্র হয়।
জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স জানায়, এসব কারণে সাদ্দামের স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, সাদ্দামের স্ত্রী তার সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন— এমনটাই প্রাথমিক ধারণা। তবে ঘটনাটি অন্য কোনো কারণেও ঘটতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদারকে উদ্ধৃত করে সংগঠনটি জানায়, প্যারোলের বিষয়ে পরিবার মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিল। সেখান থেকে জানানো হয়, যেহেতু সাদ্দাম যশোর কারাগারে বন্দি, বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। তবে সময় স্বল্পতার কারণে শেষ পর্যন্ত প্যারোলের আবেদন না করে জেল গেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাটে ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী। স্বামী দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকায় হতাশা থেকেই তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।







