২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় সংঘটিত এক সহিংসতায় সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের গুলিতে গুরুতর আহত হন অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম। গুলি তার পেটে বিদ্ধ হলে গর্ভের শিশুটিও গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় সুরাইয়া। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মারাত্মক প্রভাবে সুরাইয়ার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়, দুই পায়ে চিরতরে চলাচলের সক্ষমতা হারায় এবং ডান হাতও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
এই ঘটনার এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিচার ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। একটি শ্রেণির সাংবাদিক ও বিশ্লেষক এই ঘটনায় অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল ভাষা ব্যবহার করে বক্তব্য ও প্রতিবেদন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের মতে, যেসব সংগঠন ও নেতাদের সময়ে প্রকাশ্য সহিংসতায় মায়ের গর্ভে থাকা শিশুও নিরাপদ ছিল না, তাদের নেতাদের প্রতি এ ধরনের ‘মায়াকান্না’ ন্যায়বিচারের প্রতি অবমাননার শামিল। তারা বলছেন, প্যারোল কোনো অধিকার নয়; এটি একটি আইনগত সুবিধা, যা অপরাধের ধরন, প্রেক্ষাপট ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করেই দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীদের বক্তব্য, সুরাইয়ার মতো শিশুদের আজীবন বয়ে বেড়ানো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও যন্ত্রণার কথা উপেক্ষা করে অপরাধী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি দেখানো হলে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তারা মনে করেন, অপরাধের ইতিহাস ও ভুক্তভোগীদের বাস্তবতা সামনে না এনে কেবল অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্তদের কষ্টকথা তুলে ধরা সাংবাদিকতার নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে সহিংস রাজনৈতিক অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভাষা ও প্রেক্ষিতভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের দাবি জোরালো হচ্ছে।







