জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মিরপুরসহ ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে মানুষের জান, মাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
ঢাকা-১৫ আসনে নিজ নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তর কাফরুল এলাকা থেকে তার গণসংযোগ শুরু হয়।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ও মিরপুর-১৫ আসনের আসন পরিচালক আবদুর রহমান মুসা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
গণসংযোগকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিরপুরসহ পুরো ঢাকা মহানগরীকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে। সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, যানজট নিরসন, শিশু পার্ক ও খেলার মাঠ সৃষ্টি এবং সবুজায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন—এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে। আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং থাকবে।
মিরপুরের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মিরপুর শুধু একটি এলাকা নয়, এটি সংগ্রাম ও প্রতিবাদের প্রতীক। কিন্তু আজ এই এলাকাই অবহেলা, দখলদারি, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপরাধে জর্জরিত। বিশুদ্ধ পানির সংকট, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি, খাল দখল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই দুর্ভোগ কি মিরপুরবাসীর প্রাপ্য ছিল?
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস আছে কিন্তু শৃঙ্খলা নেই, ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে, মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো হবে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। স্থানীয় সড়কগুলো পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে এবং জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে মিরপুরকে ঢাকার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা হবে।
নারীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকায় নারীদের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহন—সব জায়গায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, শক্তিশালী কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
আবাসন সংকটের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মিরপুর-কাফরুল এলাকায় বাড়িভাড়া ও আবাসন সমস্যা প্রকট। উচ্ছেদের রাজনীতিতে নয়, বরং নিরাপদ ও মানবিক বস্তি উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক আধুনিক সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করা হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা হবে। কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে।
তরুণদের জন্য পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তরুণরা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।
শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পেশিশক্তি ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে গণমানুষের কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশপ্রেমিক, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন। তিনি মিরপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য মিরপুর এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সুযোগ দিন।







