সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অ্যাকাউন্টটি ফিরে পেয়ে তিনি নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তার অ্যাকাউন্টটি যখন নিয়ন্ত্রণে ছিল না, তখন কিছু মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা তার প্রকৃত অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নারীর ক্ষমতায়ন ও সম্মান নিশ্চিত করা জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম মূল নীতি ও উদ্দেশ্য। তিনি দাবি করেন, দলের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রথম থেকেই নারীদের বিষয়ে অত্যন্ত স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হয়েছে। বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য হলো নারীদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি স্তরে সক্রিয় ও সম্মানিত করে তোলা।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোর অন্যতম লক্ষ্য হলো নারীদের শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন এবং জনসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সম্মানজনক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এর আওতায় রয়েছে নারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শিক্ষিত ও নিরাপদ নারী সমাজই দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।
কর্মক্ষেত্রে নারীদের অধিকার নিয়ে তিনি আরও জানান, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমান বেতন এবং সম্মানজনক কাজের সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এছাড়া নারীদের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নও তাদের পরিকল্পনার একটি বড় অংশ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে, আগামী মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর পরিপূর্ণ নির্বাচনি ম্যানিফেস্টো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তার পোস্টের শেষে তিনি একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘নারীর মর্যাদা রক্ষাকারী বাংলাদেশই এগিয়ে যাওয়ার বাংলাদেশ’। এর মাধ্যমে তিনি নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে দলের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনরায় দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন।







