মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের পরিচালিত আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের পৈশাচিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ বিশ্বজুড়ে তীব্র ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। প্রায় ৩০ লক্ষ পৃষ্ঠার এই নথিতে উঠে এসেছে আধুনিক সভ্যতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার জগতের গল্প।

অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টেইন ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ৩ থেকে ৯ বছর বয়সী কন্যা শিশুদের পাচার করে ফ্লোরিডার এক গোপন দ্বীপে নিয়ে আসতেন, যেখানে বিশ্বখ্যাত রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী ও কোটিপতিরা নিয়মিত পাশবিক নির্যাতনে অংশ নিতেন।

প্রকাশিত এই নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো প্রভাবশালীদের নাম আসায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অত্যন্ত ভয়ানক অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে যে, এই চক্রটি কেবল যৌন নির্যাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের হত্যা করে তাদের মাংস ভক্ষণ এবং ভ্রূণ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খাওয়ার মতো হাড়হিম করা কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করা হতো।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শিশুদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা নির্ধারণ করে রেটিং দিতেন এবং অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এসব জঘন্য কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতেন।
এপস্টেইন ফাইলসের এই তালিকায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও উঠে এসেছে, যেখানে তাকে বিতর্কিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথেও এই চক্রের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সংযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ ও তার তহবিলে অনুদান গ্রহণকারী মার্কিন রাজনীতিবিদদের নির্বাচনী প্রচারে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়া নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও একটি অংশে উঠে এসেছে, যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে তার সামাজিক পরিচয়ের প্রসঙ্গটি বর্ণিত হয়েছে।

পুরো বিষয়টিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও পশ্চিমা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একটি সমন্বিত ব্ল্যাকমেইলিং নেটওয়ার্ক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এসব কুকর্মের গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখা হতো যাতে পরবর্তীতে তাদের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২০০৯ সালে গ্যাব্রিয়েলো রিকো নামের এক নারী এবং পরবর্তীতে সাংবাদিক ব্রাউন এই চক্রের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা করলে তাদের রহস্যজনকভাবে গায়েব বা হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি খোদ জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান, যা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পর পশ্চিমা সংস্কৃতি ও আদর্শিক প্রচারণার ওপর বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও সভ্যতার সবক দিতেন, তাদের এমন বিকৃত ও পাশবিক রূপ সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতন সমাজ এখন দাবি তুলছে যে, ক্ষমতার আড়ালে থাকা এই ‘নরপশুদের’ কেবল চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।







