বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা আইডি হ্যাকের মতো ঠুনকো অজুহাতে মিথ্যা কথা বলেন, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারেন না। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে যশোরের উপশহর কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন এখনো আসেনি।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল তাদের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এখন আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, এ ধরনের আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে জনগণের সামনে এমন মিথ্যাচার করে ওই দলটি আসলে তাদের আসল চরিত্রই উন্মোচিত করছে।
নারীদের মর্যাদা ও অধিকারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তাদের ঘরের চার দেয়ালে আটকে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের এমন মানসিকতা আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের ধারণার পরিপন্থী। এর আগে খুলনার জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন যে, যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে নারীদের কর্মজীবনকে ছোট করতে চান, তারা আসলে ইসলামের সঠিক ইতিহাস জানেন না।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের উদাহরণ টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নবী করিম (সা.)-এর প্রথম সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের একজন সফল ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। সুতরাং যারা নিজেদের ধার্মিক দাবি করেন, তাদের কারোরই নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক এখতিয়ার নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নারীদের পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
যশোর ও খুলনা অঞ্চলের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে শক্তি মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায় এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়, তাদের বর্জন করতে হবে। তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও নারীর মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।







