ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় গড়িমসি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশীয় তদন্ত ব্যবস্থার ওপর তাদের আর আস্থা নেই এবং বর্তমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন যে, হাদি হত্যা মামলাটি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পিছিয়ে দীর্ঘসূত্রতার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আজ পঞ্চম শুনানি হলেও কেন এখনও তদন্ত শেষ হচ্ছে না এবং কেন মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাদের তদন্তের কোনো অগ্রগতি জানানো হচ্ছে না।
শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করার ৫৩ দিন এবং হত্যার ৪৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাবের। এমতাবস্থায় লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের মতো জাতিসংঘের অধীনে তদন্তই একমাত্র স্বচ্ছ সমাধানের পথ বলে মনে করে ইনকিলাব মঞ্চ। এছাড়া গত চার দিন ধরে চেষ্টা করেও প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি জনগণের সরকারের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়। তারা মনে করেন, শুধু ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ হাজার কেন্দ্রের প্রতিটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তারা। হাদি হত্যার বিচার ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।







