পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ-১৭ (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমান কেনার দৌড়ে নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও ইরাক ও ইন্দোনেশিয়াসহ মোট পাঁচটি দেশ এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানটি কেনার ব্যাপারে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মূলত ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক আকাশপথের সংঘাতে যুদ্ধক্ষেত্রে এই বিমানের সফল ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, জেএফ-১৭ বিমানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর দাম। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন বা ফ্রান্সের ড্যাসল্ট এভিয়েশনের তৈরি পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের তুলনায় এটি অনেক সাশ্রয়ী। প্রতিটি জেএফ-১৭ বিমানের দাম আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার, যা উন্নত ফিচারের বিচারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি বিকল্প।
তবে আন্তর্জাতিক এই চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উৎপাদন ক্ষমতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে বছরে ২০টিরও কম বিমান তৈরি করতে পারে, যার সিংহভাগই দেশটির নিজস্ব বিমান বাহিনীর চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ বড় আকারের ক্রয়াদেশ দিলে তা সময়মতো সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ যদি এই বিমানটি কেনে, তবে এটি দেশের বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমানটি হাতে পেলে বাজেট সীমার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন শক্তি পাবে বাংলাদেশ।







