মার্কিন দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন মামলার কয়েক মিলিয়ন নথি প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, প্রকাশিত নথিপত্রগুলোতে ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় সঠিকভাবে আড়াল (Redact) না করায় প্রায় একশ’ ভুক্তভোগীর জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অন্যতম জঘন্য ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইনজীবীরা।
তীব্র সমালোচনার মুখে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সোমবার মার্কিন প্রশাসন তাদের ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার বিতর্কিত নথি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ত্রুটি:
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন মামলার প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, এক লক্ষ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও প্রকাশ করে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নাম কাটাকাটি করা হলেও তা স্পষ্টভাবে পড়া যাচ্ছে। এছাড়া এমন অনেক নগ্ন ছবি এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে ভুক্তভোগীদের অনায়াসেই শনাক্ত করা সম্ভব। ভুক্তভোগীরা এক বিবৃতিতে একে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ:
জনপ্রিয় সারভাইভার অ্যানি ফারমার জানান, বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের পরিচয় উন্মুক্ত করে দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, তার ফলে তারা নতুন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস জানান, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ায় অনেকে প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন।
বিচার বিভাগের ব্যাখ্যা:
তীব্র চাপের মুখে সোমবার বিচার বিভাগ ফেডারেল আদালতকে জানিয়েছে, যেসব নথিতে ত্রুটি পাওয়া গেছে সেগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিচয় আড়াল করতে না পারার কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা মানুষের ভুলকে দায়ী করা হয়েছে। বিচার বিভাগের দাবি, প্রকাশিত বিশাল তথ্যভাণ্ডারের মধ্যে মাত্র ০.১ শতাংশ পৃষ্ঠায় এমন ত্রুটি পাওয়া গেছে। বর্তমানে একটি বিশেষ দল দিনরাত কাজ করছে যাতে তথ্যগুলো সঠিকভাবে আড়াল করে পুনরায় প্রকাশ করা যায়।
আইনি বাধ্যবাধকতা:
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাস হওয়া একটি বিশেষ আইনের অধীনে এই নথিগুলো প্রকাশ করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। তবে ওই আইনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা হলেও ভুক্তভোগীদের পরিচয় কোনোভাবেই উন্মোচন করা যাবে না।
নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড জানিয়েছেন, অনেক ভুক্তভোগী যারা আগে কখনো জনসমক্ষে আসেননি, এই ভুলের কারণে তাদের পরিচয় এখন বিপন্ন। বর্তমানে আইনজীবীরা আদালতের কাছে পুরো ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।







