রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ (New START)-এর মেয়াদ আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শেষ হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব এক অনিশ্চিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০১০ সালের ৮ এপ্রিল চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছিলেন। ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর দুই পরাশক্তির মধ্যে পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে যেসব চুক্তি হয়েছিল, তার মধ্যে এটিই ছিল সর্বশেষ কার্যকর ব্যবস্থা। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমায় রাখা এবং একে অপরের পারমাণবিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে বিশ্বে পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল ৭০ হাজারেরও বেশি, যা ২০২৫ সালে কমে প্রায় ১২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে ভয়ের কারণ হলো, গত এক দশকে চীন তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের বিদ্যমান অস্ত্রগুলো আধুনিকায়ন করেছে।
ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের সহযোগী পরিচালক ম্যাট কর্ডা জানিয়েছেন, চুক্তিটি নবায়ন না হওয়ায় এখন থেকে রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র—কেউই আর পারমাণবিক ওয়ারহেডের সীমিত ব্যবহারে বাধ্য থাকবে না। ফলে উভয় দেশই তাদের মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী বোমারু বিমানে শত শত অতিরিক্ত ওয়ারহেড বসানোর সুযোগ পাবে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বর্তমান মোতায়েন অস্ত্রভাণ্ডারের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণপন্থীদের মতে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কেবল ওয়ারহেডের সংখ্যাই বাড়বে না, বরং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুই দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা যাচাইয়ের যে ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
অন্যদিকে, চুক্তিবিরোধীরা মনে করেন এসব চুক্তিতে অনেক অস্পষ্টতা থাকে যা পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত স্বাধীনতা কমিয়ে দেয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত বছর এক বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে পৃথিবীর জন্য ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বিশ্ব এখন এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে, যেখানে চীনও একটি শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।







