লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ইমরান (২৩) ও সজীব (২৪) নামে দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ৪ নম্বর আলেয়াপুর গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইমরান চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামের কাজল ইসলাম সুমনের ছেলে এবং সজীব আলেয়াপুর ইউনিয়নের ভগবতী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। ইমরান চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ২টি ম্যাগাজিন, ৪টি খালি কার্তুজ, ৪টি এলজি, ২৬টি শটগানের গুলি এবং ৫৩টি আতশবাজি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাখা ২টি ককটেল, ১টি দেশি অস্ত্র এবং নাশকতার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃত এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে এলাকায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা আগে থেকেই চলমান রয়েছে বলে সদর সেনাক্যাম্প সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন আরমান হাবিব অপু ও লেফটেন্যান্ট আবিদ করিম শাহরিয়ারের নেতৃত্বে র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ টহল টিমের সহযোগিতায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের আস্তানাটি ঘেরাও করে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন সেনাসদস্যরা। পরে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আটককৃতদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আরমান হাবিব অপু জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করতে এবং এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করেছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সন্ত্রাসী ও নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় এমন অভিযান চালু রাখার দাবি জানিয়েছে।







