সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের প্রবাসীদের জন্য বিমানের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু এবং ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবহেলা করা হয়েছে। একসময় ম্যানচেস্টারে সরাসরি ফ্লাইট চললেও এখন তা বন্ধ। তিনি ঘোষণা দেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পুরনো রুটগুলো চালুর পাশাপাশি সিলেটের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের নতুন নতুন সরাসরি বিমান রুট চালু করা হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির জাতীয় অগ্রগতির স্বপ্ন তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আর পেছনের দিকে যাবে না। তিনি রূপক অর্থে বলেন, “আমরা চিংড়ি মাছের মতো পেছনে দৌঁড়ানোর রাজনীতি চাই না। আমরা সিংহের মতো গর্জন দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।” বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য মানুষ জুলুমের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে সবথেকে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের সব অফিস তালাবদ্ধ করে রাখা এবং নেতাকর্মীদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার নজিরবিহীন নির্যাতনের কথা তিনি জনসভায় স্মরণ করিয়ে দেন।
গত ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পতনের পর একটি নির্দিষ্ট দল হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে ঢালাওভাবে মামলা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক হয়রানির কোনো স্থান থাকবে না। সিলেটের অপরাধচিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একদল মানুষ সবসময় মদ, গাঁজা আর অস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে এই পুণ্যভূমিকে অস্থির করে রাখে। জামায়াত এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সিলেটের আঞ্চলিক সংকট ও সম্পদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এখানকার মানুষের কাছে সুপেয় পানি পাওয়া এখন ‘আলাদীনের চেরাগের’ মতো দুষ্প্রাপ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিলেট অঞ্চল খনিজ সম্পদে ভরপুর হলেও এখানকার মানুষ তার ন্যায্য হিস্যা পায় না। সিলেটের গ্যাস দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সারা দেশে আলো ছড়ালেও এখানকার অনেক এলাকা এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত। নদীমাতৃক এই অঞ্চলের নদীগুলোকে শুকিয়ে মরুভূমি ও কঙ্কালে পরিণত করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফ কায়েম হলে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।







