ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় অস্থিরতার জেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে এক নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি আইসিসি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নাম সরিয়ে নিলে তাদের সমর্থনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। এই অচলাবস্থা কাটাতে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসি ও পিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়ে পুনরায় বিবেচনার জন্য আইসিসির সামনে তিনটি শর্ত বা দাবি পেশ করেছে। এই দাবিগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা করা। পিসিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশকে আইসিসি থেকে বর্ধিত হারে আর্থিক বরাদ্দ বা বিশেষ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
পিসিবির দ্বিতীয় দাবি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশ না নিতে পারলেও বাংলাদেশকে একটি নির্দিষ্ট ‘অংশগ্রহণ ফি’ (Participation Fee) দিতে হবে। পাকিস্তানের যুক্তি, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বিসিবি মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে, তাই টুর্নামেন্টে খেলতে না পারলেও তাদের সেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইসিসির নৈতিক দায়িত্ব।
তৃতীয় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে পিসিবি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতের কোনো বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। পাকিস্তানের মতে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু ও দর্শক সমর্থন রয়েছে, যা বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনীতির জন্য সহায়ক। একটি বড় ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো আরও উন্নত হবে।
এদিকে, আইসিসি পিসিবি-কে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে তার বাণিজ্যিক ও আইনি পরিণাম হবে ভয়াবহ। তবে পাকিস্তান তাদের অবস্থানে অনড় থেকে বিষয়টি দেশটির সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান সরকার এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে কোনো যৌথ বিবৃতি না এলেও আইসিসি জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের আয়ের পূর্ণ অংশ নিশ্চিত করবে, তবে আলাদা কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন। বর্তমানে এই ত্রিমুখী ক্রিকেটীয় দ্বন্দ্বের সমাধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।







