ব্যালট বাক্সে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।
মঙ্গলবার এক নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে থাকবে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ব্যালট বাক্স ছিনতাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সবার কাছেই আধুনিক সরঞ্জাম থাকবে, ফলে কেউ বেআইনি কর্মকাণ্ডের সাহস পাবে না।
তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে নির্বাচন উপলক্ষে র্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ ফুট পেট্রোল মহড়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল রানা।
তিনি জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় এমন নিরাপত্তা পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দুষ্কৃতকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীরা ভীত থাকে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, জালিয়াতি ও সহিংসতা প্রতিরোধে এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের পোশাকে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা। এছাড়া পুলিশ সুপারদের নেতৃত্বে নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সারা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী পুলিশ মোতায়েন, এলাকাভিত্তিক টহল দল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ইউনিট। মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য সরাসরি দায়িত্ব পালন করছেন।







