বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা জামায়াতে ইসলামী এখন কেবল মাঠেই ফেরেনি, বরং নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকর্ষণ এবং ‘পরিবর্তন’-এর প্রতিশ্রুতি দলটিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
যুধাজিৎ শঙ্কর দাসের ওই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত ১৫ বছরের শাসনকালে যারা কেবল আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেখেছে, সেই প্রায় চার কোটি নতুন ভোটারের কাছে জামায়াত ও এনসিপি জোটের ‘নতুন বন্দোবস্তের’ প্রস্তাব বেশ শক্তিশালী প্রভাব ফেলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল রহমানের মতে, আগে ধারণা করা হয়েছিল বিএনপি একতরফাভাবে বিপুল আসন পাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এনসিপি-জামায়াত জোট যেখানে পরিবর্তনের কথা বলছে, সেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি পুরোনো ধাঁচের রাজনীতির মাধ্যমে স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
সংখ্যালঘু এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও জামায়াত নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর তারা মন্দির পাহারা দিয়েছে এবং দুর্দিনে আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারকেও আশ্রয় দিয়েছে। এমনকি খুলনা-১ আসনে কৃষ্ণ নন্দী নামে একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে তারা ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ নকীবুর রহমান জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানপন্থি নয় বরং ‘বাংলাদেশপন্থি’ দল। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতেও দলটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর।
এক সময়ের নিষিদ্ধ দল থেকে মূলধারার রাজনীতিতে জামায়াতের এই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, এই ‘পরিবর্তন’-এর হাওয়া ব্যালট বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে।







