উৎসব, উদ্দীপনা আর বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ক গণভোটের ভোটগ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন দেশজুড়ে বইছে টানটান উত্তেজনা, সবার নজর এখন ব্যালট বক্স আর জনরায়ের দিকে।
ভোটের হার ও জনসমাগম নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্যমতে, সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ ১৫ বছর পর বড় সব দলের অংশগ্রহণে ভোট হওয়ায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা দেখা গেছে। বিশেষ করে ঢাকার ভিআইপি আসনগুলো থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলেও নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তবে বিকেলের দিকে কিছু এলাকায় উপস্থিতির হার কিছুটা কমে আসে।
বিচ্ছিন্ন সহিংসতা ও অভিযোগ ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও নোয়াখালী, ফেনী ও শেরপুরসহ কিছু জেলায় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও প্রার্থী ও এজেন্টদের ওপর হামলা, আবার কোথাও ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপি ও এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ছাড়াই ভোট শেষ হয়েছে।
গণভোটের নতুন মাত্রা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবারই প্রথম ভোটাররা সংবিধানের মৌলিক কিছু পরিবর্তনের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এই গণভোটের ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফলাফলের অপেক্ষা বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয়েছে ভোট গণনার কাজ। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রাতেই কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল আসা শুরু করবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, শুক্রবার সকালের মধ্যেই ৩০০ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং গণভোটের রায় ঘোষণা করা সম্ভব হবে।







