ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে দেশের কিছু আসনের নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনসহ বেশ কিছু এলাকায় দলমত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে ‘শাপলা কলি’র বিজয় হবে—এমন ভয় থেকেই ভোটারদের ঠেকানো হচ্ছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা মোটেও আশানুরূপ নয়।”
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ভোটের আগের রাতে বিভিন্ন আসনে তাদের প্রার্থীদের এজেন্ট ও সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, “সংকটকালীন সময়ে আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট বা এসপিকে ফোনে পাইনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিছু জায়গায় যোগাযোগ করা গেলেও দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়নি, ফলে সমর্থকদেরই প্রতিরোধ গড়তে হয়েছে।”
তরুণ ভোটারদের প্রথম ভোট দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজের ভোট দিতে পারার অনুভূতি ব্যক্ত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি আগে দুটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। এবারই প্রথম ভোট দিলাম। আমার মতো প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটারের জন্য এটি প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা।” তিনি এই অর্জনকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখান।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশের আহ্বান সারাদেশে মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার যে ‘বাঁধভাঙ্গা উল্লাস’ দেখা যাচ্ছে, তা যেন ম্লান না হয়—সে জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। আসিফ মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, প্রত্যেক ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।







