ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, জেলার সবকটি আসনেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পরাজিত করে ঐতিহাসিক এই সাফল্য অর্জন করেছেন।
সাতক্ষীরা-১: ইজ্জত উল্লাহর জয় তালা ও কলারোয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইজ্জত উল্লাহ বিজয়ী হয়েছেন। ১৬৮টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২,২০,৩৩০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব পেয়েছেন ১,৯০,৯৮৫ ভোট। ইজ্জত উল্লাহ ২৫,৬২৬ ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-২: মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বিশাল জয় সাতক্ষীরা সদর আসনে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে জয়ী হয়েছেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। ১৮০টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২,৬০,৪২৩ ভোট। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১,১৪,৩৩২ ভোট। এই আসনে ১,৪৬,০৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পান জামায়াতের এই প্রার্থী।
সাতক্ষীরা-৩: বিজয়ী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১,৩২,৮৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) ডা. শহিদুল আলম পেয়েছেন ৯৩,৮৩৪ ভোট। প্রায় ৩৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হন।
সাতক্ষীরা-৪: গাজী নজরুল ইসলামের বিজয় শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর জয় নিশ্চিত করেছেন। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ১,০৫,৪৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪,৪২৪ ভোট। গাজী নজরুল ইসলাম ২১,০৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
সাতক্ষীরার সবকটি আসনেই জামায়াতের এই ‘ক্লিন সুইপ’ ফলাফল জেলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।







