চীনের নির্মিত ‘নিং ইউয়ান ডিয়ান কুন’ (Ning Yuan Dian Kun) নামের এই জাহাজটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এক বিস্ময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার এই বিশাল জাহাজটি গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সমুদ্রে চলাচল শুরু করেছে। এটি চীনের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ১০ হাজার টন শ্রেণির ইলেকট্রিক ‘স্মার্ট’ জাহাজ। বর্তমানে এর কার্যক্ষমতা এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চলছে, যা শেষ হলেই জাহাজটি নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে পণ্য পরিবহন শুরু করবে।
১৩০ মিটার দীর্ঘ এই জাহাজটির বিশেষত্ব হলো এর পরিবেশবান্ধব চালিকাশক্তি। এটি একাধারে ৭৪০টি স্ট্যান্ডার্ড কনটেইনার বহন করতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ গতিবেগ রাখা হয়েছে ১১.৫ নট। দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় চার্জিংয়ের ঝামেলা এড়াতে এতে উচ্চ ভোল্টেজের উপকূলীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জাহাজটি থেকে কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ বা ধোঁয়া নির্গত হবে না।
এই জাহাজের সবচেয়ে আধুনিক দিক হলো এর ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা। জাহাজটিতে ব্যাটারিগুলো সাধারণ কনটেইনারের আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বন্দরে পৌঁছানোর পর চার্জ দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়বে না। বরং ক্রেনের সাহায্যে চার্জ শেষ হওয়া ব্যাটারি কনটেইনারটি নামিয়ে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ চার্জ করা নতুন একটি ব্যাটারি যুক্ত করে দেওয়া যাবে। এই উদ্ভাবনটি মূলত বৈদ্যুতিক জাহাজের বাণিজ্যিক সফলতাকে আরও সহজ করে তুলবে।
জাহাজটি সম্পূর্ণ নিঃশব্দে চলাচল করতে সক্ষম, যা সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য শব্দদূষণ রোধে সহায়তা করবে। বিশ্বব্যাপী যখন গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন চীনের এই বিশালাকার বৈদ্যুতিক জাহাজটি সামুদ্রিক বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, বরং ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।







