ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করার পর এই আসনের ভোটের ব্যবধান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজ পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “যাদের কোনো শক্তিশালী জনভিত্তি বা ভোট নেই, তারা এতো ভোট পেলো কীভাবে? এটিই প্রমাণ করে পর্দার আড়ালে কী ধরনের কারসাজি হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে অসংখ্য ব্যালট অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মোটেও শুভ নয়।
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা দাবি করেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই একটি বিশেষ গোষ্ঠী ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের তীব্র জোয়ারের কাছে সেই অপচেষ্টা টেকেনি। তিনি এই ধরনের কৌশলকে জাতির ভবিষ্যতের জন্য এক ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভোটের প্রকৃত স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর সংশয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর মির্জা আব্বাস দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “এখন সময় শান্ত থাকার এবং দেশ পুনর্গঠনে ধৈর্য ধারণ করার।” নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, ইনসাফের রাজত্ব কায়েম করতে চাই।”
ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস জানান, নির্বাচনে কোনো অসংগতি থাকলে বা পুনর্গণনার প্রয়োজন হলে সে সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২টি এবং পোস্টালসহ মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মোট ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়েছেন। ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের এই ব্যবধান নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ।







