ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরে এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দলটির অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর স্বল্প ব্যবধানে পরাজয় এবং এর বিপরীতে দলীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমানের শান্ত ও স্থিতধী অবস্থান নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পিরোজপুর-২ আসনে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর এক পুত্র বিজয়ী হলেও অন্যজনকে মাত্র ৭০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে নূর আহমদ আনোয়ারীকে ২ হাজার ৫০০ পোস্টাল ব্যালট বাতিল করার মাধ্যমে ৯২৯ ভোটে এবং খুলনায় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে মাত্র ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত সংশ্লিষ্টদের দাবি, অন্তত ৫৩টি আসনে ৫ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক অ্যাক্টিভিস্ট দাবি করছেন, জামায়াত প্রকৃতপক্ষে ১৩৫টি আসনে জয়লাভ করলেও ‘ডিপ স্টেট’ বা পর্দার অন্তরালের শক্তিগুলো কারচুপির মাধ্যমে এই সংখ্যা ৭০-৮০ তে নামিয়ে আনতে চাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডা. শফিকুর রহমান কেন কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে ফলাফল মেনে নিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. শফিকুর রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি সম্ভবত আন্তর্জাতিক বিশেষ করে আমেরিকার দেওয়া কোনো ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণের পথে হাঁটতে চাইছেন না। মিশর বা তিউনেসিয়ার ইসলামপন্থীদের পরিণতির কথা মাথায় রেখে তিনি হয়তো এই মুহূর্তে সংঘাতের বদলে ধৈর্য ধরাকেই উত্তম মনে করছেন। ১৭ বছরের দীর্ঘ জুলুমের পর সংগঠনের শক্তি সঞ্চয় এবং কর্মীদের মুক্ত পরিবেশে কাজ করার সুযোগ দেওয়াকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
অ্যাক্টিভিস্টদের একটি বড় অংশ মনে করছে, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সমীকরণ বুঝে ডা. শফিকুর রহমান আপাতত ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ মেনে নিয়ে এক বড় ধরনের কৌশলগত ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অহেতুক শক্তি ক্ষয় না করে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই তাঁর প্রধান নজর। ২০১৮ সাল পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই প্রমাণ করে যে, তিনি হঠকারী কোনো সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী নন।
আপাতত জামায়াতে ইসলামী যতটুকু রাজনৈতিক অবস্থান পেয়েছে, সেটুকুকে ভিত্তি করেই তারা আগামীর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে এগুতে চাচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই নীরবতা ও কৌশলী অবস্থানকে তাঁর সমর্থকরা একজন দক্ষ সেনাপতির বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।







