নাটোরে আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচনী পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বড়াইগ্রাম উপজেলার ৪নং নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগর ইউনিয়নের জয়নগর মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শুক্রবার বিকেলে ৪নং নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক জয়নগর বাজারে অবস্থানকালে বিএনপির একদল নেতাকর্মী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
জামায়াত নেতার ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে দুই পক্ষের আরও অন্তত ৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং গুরুতর আহত জামায়াত আমিরকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নগর ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনের জয়-পরাজয় মেনে নিতে না পেরে বিএনপির সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।







