ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ববহ করে তুলতে আঞ্চলিক রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা চলছে। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে। যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় এবং নরেন্দ্র মোদি তা গ্রহণ করেন, তবে ঢাকার নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে শপথের তারিখ বা বিদেশি অতিথিদের তালিকার বিষয়ে এখনো দলগতভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এর আগে নির্বাচনে বিশাল জয়লাভের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে গভীরভাবে আবদ্ধ। তিনি বাংলাদেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই আগাম অভিনন্দন ও ফোনালাপ দুই দেশের আগামীর সম্পর্কে নতুন এক ইতিবাচক মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া শেষে গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও তারেক রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের এই নতুন মেরুকরণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।







