সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের জোটের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের জন্যও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল।
তবে বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবে না।
শপথগ্রহণের আগে কক্সবাজার–১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। বিষয়টি জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, দলীয় চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেই এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা দুটি শপথই নিতে প্রস্তুত। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের মঙ্গলবার সকালে বলেন, দুপুর ১২টায় তাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত আছে এবং তারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়, তাহলে জামায়াতের নবনির্বাচিত এমপিরাও কোনো শপথ নেবেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের মতে, সংস্কার ছাড়া সংসদ অর্থবহ হবে না।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর–৩ আসনে ভোট হয়নি, আর দুটি আসনে ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।







