ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিকেল সোয়া চারটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই শেষে আবারও ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন করমর্দন করেন। এবারের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনটি ছিল ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী; বঙ্গভবনের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ অন্তত ১৩টি দেশের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি অতিথিরা এই মাহেন্দ্রক্ষণে সাক্ষী হন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন মন্ত্রিসভায় মোট ৪৯ জন সদস্য স্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে; যেখানে ১৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীই একেবারে নতুন মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন। প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার এবং সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের ঢল নামে মানিক মিয়া এভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকায়। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন সরকারকে নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তারেক রহমান তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দেশে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে দলীয় সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার মতো কঠোর অনুশাসন দিয়ে তিনি শুরুতেই একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েই যাত্রা শুরু করল তাঁর এই নতুন সরকার।







