অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নতুন রাজনৈতিক সরকারে যোগ দেওয়া এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সরব হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও ক্ষোভ তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সদস্য যদি বর্তমান নতুন সরকারে যোগ দেন, তবে তা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত হবে না। তাঁর মতে, যারা নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাদের রাজনৈতিক সরকারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নৈতিকতার পরিপন্থী।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই জনমনে উৎসবের আমেজ হারিয়ে গেছে। মানুষের দেওয়া আমানত বা ভোটের প্রতিফলন পরিপূর্ণভাবে ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে, শপথের আমন্ত্রণপত্র গভীর রাতে পাঠানোকে তিনি অত্যন্ত ‘অস্বস্তিকর’ ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র শপথ না নেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান জানানো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পবিত্র দায়িত্ব। বিএনপি এই শপথ না নিয়ে জনআকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করেছে এবং সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের শহীদদের অসম্মান করে সংসদ কখনো গৌরবের আসনে বসতে পারে না।
সরকারের প্রতি জামায়াতের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নিলে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করা হয়, তবে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্বাচনের রাত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের ওপর যে হামলা ও সহিংসতা হচ্ছে, তা দ্রুত বন্ধের দাবি জানান তিনি। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই নতুন সংসদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন।







