গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল বাতিল এবং এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই আবেদনটি করেন। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁরা এই রিটের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই করবেন।
মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আইনজীবী শিশির মনির জানান, গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে যে রিট মামলাটি করা হয়েছে, তা তাঁরা ইনশাআল্লাহ আদালতেই মোকাবিলা করবেন। এই আইনি লড়াইয়ের ঘোষণার মধ্য দিয়ে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে এক নতুন আইনি মেরুকরণ তৈরি হলো।
এর আগে দায়ের করা রিট আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী আতাউল মজিদ তৌহিদ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনটির ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। রিটে মূলত গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
গণভোটের এই রায় অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হাইকোর্টে রিট দায়েরের ফলে পুরো বিষয়টি এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে পরিবর্তনের পক্ষে বিপুল জনমত, অন্যদিকে এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।







