কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় এক মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হেসাখাল খামার পাড়া মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ইমাম হাফেজ মো. আব্দুল আলিম ভূইয়া (৫৮) গত পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে ইমামতি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে তিনি হেসাখাল বাজার ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
চাকরিচ্যুত ইমাম হাফেজ আব্দুল আলিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, নির্বাচনের দিন অন্য দুজনকে নামাজের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এখন রমজান মাসের আগমুহূর্তে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই দুঃসময়ে নতুন কাজ পাওয়া কঠিন উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করেছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারের আচরণের ক্ষোভে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম নিজের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং কমিটির সভাপতির সিদ্ধান্তও উপেক্ষা করেন।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এস এম মহিউদ্দিন এবং কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বিষয়টিকে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ওই ইমামকে সসম্মানে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সমাধান হবে।







